ই কমার্স কি?বাংলাদেশে ই কমার্স ব্যবসার সম্ভাবনা এবং সুবিধা

ই কমার্স হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক কমার্স বা ই-বাণিজ্য।সোজা কথায় কোন ইলেক্ট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে অনলাইনে পণ্য কেনাবেচা ও টাকা লেনদেন করাকে বুঝায়।ই কমার্সে কেনাবেচার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো হলঃমোবাইল বা কম্পিউটার কিংবা অন্যান্য ডিভাইস,ইন্টারনেট সংযোগ,একটি ওয়েবসাইট,পেমেন্ট গেটওয়ে এবং ডেলিভারি সিস্টেম।

ই কমার্সের কয়েকটি প্রকারভেদ

ই কমার্সের বেশ কয়েকটি আলাদা প্রকার আছে।ক্রেতা বিক্রেতার ধরণের পার্থক্যের কারণে এসব ধরণ তৈরি হয়েছে।ই কমার্সের কয়েকটি ধরণ হচ্ছেঃ

  • Bussiness to Consumer(B2C)
  • Bussiness to Business(B2B)
  • Consumer to Business(C2B)
  • Consumer to Consumer(C2C)
  • Business to Government(B2G)
  • Consumer to Government(C2G)

Business to Consumer

ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তার মধ্যে অনলাইনে যে কেনাবেচা ও লেনদেন হয় সেটাই B2C।এখানে ভোক্তা সরাসরি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে টাকার লেনদেন করে এবং পণ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বুঝে নেন।এ ধরনের ই কমার্স প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে পরিচিত হচ্ছে আমাজন,ওয়ালমার্ট,আলিবাবা ইত্যাদি।এই ধরনের ই কমার্সে সুবিধা হচ্ছে যেহেতু মূল কোম্পানি সরাসরি পণ্যের ডেলিভারি নিয়ন্ত্রণ করে সেহেতু প্রতারনার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং পণ্যের গুনগত মান ঠিক থাকে।যদি ভুলবশত পণ্যে কোন সমস্যা হয় তাহলে প্রতিষ্ঠান এই ক্ষেত্রে দায়বদ্ধ থাকে।

Business to Business

দুইটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যখন বাণিজ্য সম্পন হয় সেটাই B2B।বড় প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে এই ধরণের ই কমার্স সম্পাদন করে।উদাহরন হিসেবে দেয়া যায়-কোন কম্পিউটার উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠান থেকে কিনে এনে তারপর পণ্য উৎপাদন করে।এই দুই বা ততোধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যে ব্যবসায়িক ধরন সম্পাদিত হয়েছে সেটি যদি অনলাইনের মাধ্যমে সম্পাদিত হয় তাহলে সেটি হবে B2B ই কমার্স।

Consumer to business

এটি B2C এর উল্টো।কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে যখন ভোক্তার থেকে টাকার বিনিময়ে কোন কিছু কেনাবেচা করে সেটি ভোক্তা-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ই কমার্স।গুগল এডসেন্স এবং শাটারস্টক,ফাইভার,আপওয়ার্ক অথবা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জনসাধারণের থেকে পণ্য ক্রয় এসব B2C এর উদাহরন।

Consumer to Consumer

দুইজন সাধারণ ব্যক্তি যখন পরষ্পর কোন কিছু কেনাবেচা করে সেটি C2C ব্যবসার ধরণ।অনলাইনের মাধ্যমে এই ধরণের ভোক্তা-ভোক্তা বাণিজ্য হলে সেটি ই কমার্সের অন্তর্ভূক্ত হবে।বিক্রয় ডট কম এই ধরণের ই কমার্সের উদাহরন।যেখানে একজন ব্যক্তি তার পণ্যের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে এবং অন্যজন সেটি পছন্দ করে কিনছে।

Bussiness to Government

সরকারের সাথে যখন কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্য হয় সেটি B2G এর অন্তর্ভূক্ত।সরকার নিজে কোন কাজ করে না।টেন্ডার বা দরপত্র আহবান করে।ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে প্রস্তাব দেয় এবং সুবিধামত এবং লাভজনক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করে।

Consumer to government

সরকার অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে এবং জনগণ সেখান থেকে সেবা গ্রহন করে।এটি ভোক্তা-সরকার বাণিজ্যের অন্তর্ভূক্ত।বিদ্যুত,গ্যাস,পানি,ইন্টারনেট এসব সেবা ভোক্তা টাকার বিনিময়ে গ্রহন করে।এছাড়াও জনগন থেকে সরকার বিভিন্ন ভ্যাট বা কর পায়।বাংলাদেশ সরকার ট্যাক্স নেয়ার সুবিধার্থে ই-টিন নাম্বার চালু করেছে।

কয়েকটি জনপ্রিয় ই কমার্স ওয়েবসাইট

ই কমার্স এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে ওয়েবসাইট।ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ভোক্তা পণ্য বা সেবা সম্পর্কে জানতে পারে এবং সেখান থেকে অর্ডার করে।জনপ্রিয় কয়েকটি ই কমার্স ওয়েবসাইটের তালিকা হচ্ছেঃ

  • Amazon
  • Ebay
  • Alibaba
  • Flipkart
  • Fiverr
  • Upwork
  • Olx
  • Walmart

বাংলাদেশে ই কমার্স ব্যবসার গুরুত্ব

বাংলাদেশ ১৭ কোটি মানুষের দেশ।দেশের সিংহভাগ মানুষের কাছে মোবাইল আছে।গবেষণা বলছে প্রায় ১০ কোটি মানুষ মোবাইল ব্যবহার করে এবং ২০৩০ সাল নাগাদ দেশে মোবাইল ব্যবহারকারী প্রায় ২ গুণ বাড়বে।প্রায় ৬২% মানুষ কোন না কোন ভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করে।তাই ডিজিটাল মার্কেটিং এর মত ই কমার্সের গুরুত্ব অনেক।এত বিশাল একটি সম্ভাবনাময় বাজারে সফল ই কমার্স ব্যবসা প্রয়োজন।অদূর ভবিষ্যতে মানুষ কষ্ট করে বাজার করবে না।মোবাইলে বিভিন্ন ই কমার্স সাইট থেকে পণ্য পছন্দ করে অর্ডার করবে এবং ঘরে বসেই পেমেন্ট করে দেবে।ইতিমধ্যেই দেশে অনেক ই কমার্স ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেশে জনপ্রিয় হয়েছে।বাংলাদেশের কয়েকটি জনপ্রিয় ই কমার্স ওয়েবসাইটের নাম হলঃ

  • দারাজ
  • ইভ্যালি
  • পান্ডামার্ট
  • ফুডপান্ডা
  • হাংরিনাকি
  • রকমারি ডট কম
  • বিক্রয় ডট কম

ই কমার্সের সুবিধা ও অসুবিধা

ই কমার্সের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে ভোক্তার কষ্ট লাঘব।ই কমার্স সেবা গ্রহণ করলে ভোক্তাকে কষ্ট করে বাজারে গিয়ে জিনিসপত্রের দামাদামি করতে হবে না।কম দামে সহজেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য পেয়ে যাবেন।পছন্দের খাবার বা পছন্দের বই অর্ডার দিলেই যথা সময়ে খাবার বা বই পৌচগে যাবে।ই কমার্স ব্যবসার উন্নতি হলে দেশের অর্থনীতিতে এর বিশাল প্রভাব পড়বে।বহু বেকার লোকের কর্মসংস্থান হবে।
তবে ই কমার্সের কিছু অসুবিধাও আছে।অনেক প্রতারক আগে টাকা নিয়ে পণ্য দেয় না কিংবা ভুল পণ্য পাঠিয়ে দেয়।পণ্যের মান নিম্ন মানের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।এসব কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের কাজের কারণে মানুষ ই কমার্স এর উপর আস্থা হারাচ্ছে।তবে মানসম্মত পণ্য অ যথা সময়ে পণ্য পেলে ভোক্তাদের আস্থা বাড়বে এবং বাংলাদেশের ই কমার্স ব্যবসার প্রসার ঘটবে।

Leave a Comment