ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং কেন শিখবো?(সম্পূর্ণ বাংলা গাইডলাইন)

ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং কেন এটি শেখা বর্তমান সময়ে এত গুরুত্বপূর্ণ সেটি জানতে পুরো পোষ্টটি মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে।ডিজিটাল মার্কেটিং এর মার্কেটটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল মার্কেটগুলোর মধ্যে একটি।২০১৯ সালে এই মার্কেটের নিট মূল্য প্রায় ২৯০ থেকে ৩১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল।২০২০ সালে এর মূল্য এসে দাড়ায় প্রায় ৩৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।তাহলে একবার চিন্তা করে দেখুন আগামি ৫ বছর পরে এই মার্কেটের ভ্যালু কোথায় গিয়ে পৌছাবে।ভাল করে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে দক্ষ হয়ে উঠতে পারলে কাজের কোন অভাব হবে না,চাকরিবাকরির জন্য হা-হুতাশ করতে হবে না,ঘরে বসেই মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করতে পারবেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং কি?

ডিজিটাল মার্কেটিং বলতে বুঝায় কম্পিউটার,মোবাইল,ট্যাবলেড বা অন্য কোন ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যেমনঃ ফেসবুক,টুইটার,রেড্ডিট,পিন্টারেস্ট ,ইন্সটাগ্রাম ইত্যাদি সোশ্যাল মিডিয়া,সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO),ইমেইল এর মাধ্যমে বিভিন্ন সার্ভিস বা পণ্যের প্রচার ও বিক্রি করার পদ্ধতি।বর্তমান সময়ে অন্যান্য মার্কেটিং পদ্ধতি থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং বেশ কার্যকরী ও লাভজনক কেননা যত দিন যাচ্ছে ততো বেশি মানুষ ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হচ্ছে।ফলে ফ্রিতেই অথবা স্বল্প টাকা খরচ করে বিপুল সংখ্যাক ক্রেতার কাছে পৌছে যাচ্ছে।আমরা প্রতিনিয়ত ইন্টারনেটে বিভিন্ন পণ্য খুজে বেড়াচ্ছি,বিভিন্ন বিষয় সার্চ ইঞ্জিনে খুজে দেখছি,কোথায় কত সময় ব্যয় করছি -এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল মার্কেটাররা আমাদের চাহিদা এবং পছন্দের জিনিস সম্পর্কে জানতে পারে।সে অনুযায়ী তারা সঠিক ক্রেতার কাছে সঠিক পণ্যের বা সার্ভিসের বিজ্ঞাপন দেখায়।এই কৌশলের নামই ডিজিটাল মার্কেটিং।

কেন শিখবো ডিজিটাল মার্কেটিং?

বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৪২৫ কোটি মানুষ ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত আছে।প্রতিমাসে ২৯১ কোটি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে।প্রতিদিন টুইটার ব্যবহার ২১১ মিলিয়ন জন।রেড্ডিট ব্যবহারকারী প্রতিমাসে ৪৩০ মিলিয়ন।এক সময় রাস্তায় বিলবোর্ড লাগিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হত কিংবা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হত।

এতে সঠিক ক্রেতার কাছে পৌছানো যেমন সম্ভব হয় না,আবার এটি অনেক খরুচে এবং সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।কিন্তু এখন মাত্র একটি পোষ্ট বা ভিডিও দিয়েই লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে কোন বার্তা পৌছানো সম্ভব।আপনার হয়ত মনে হতে পারে এটাত খুবই সহজ কাজ,যে কেউই করতে পারবে।আসলে ব্যাপারটা এত সহজ নয়।ডিজিটাল মার্কেটিং একটি জটিল প্রক্রিয়া।এর ক্ষেত্র অনেক বিশাল। আর এই জন্যই বিশ্বে ডিজিটাল মার্কেটারদের চাহিদা এবং পারিশ্রমিক দুটোই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ই কমার্স কোম্পানিগুলো ডিজিটাল মার্কেটারদের উচ্চ বেতনে নিয়োগ দিচ্ছে।ফাইবার,আপওয়ার্ক সহ অন্যান্য ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট প্লেসে দক্ষ ডিজিটাল মার্কেটারদের কাজের কমতি হচ্ছে না।এত কিছুর পরে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখা কেন আপনার জন্য জরুরি সেটা এখনো বলতে হবে?

ডিজিটাল মার্কেটিং এর শাখাসমূহ

আগেই বলেছি ডিজিটাল মার্কেটিং এর শাখা অনেক বিশাল।ভবিষ্যতে এর ক্ষেত্র আরো বাড়বে।আমরা এখানে কয়েকটি জনপ্রিয় ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করব।ডিজিটাল মার্কেটিং করার কয়েকটি উপায় হচ্ছেঃ

  • সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং
  • কন্টেন্ট মার্কেটিং
  • ইমেইল মার্কেটিং
  • এসএমএস মার্কেটিং
  • সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং
  • পে পার ক্লিক
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
  • টেলিভিশন বিজ্ঞাপন
  • রেডিও বিজ্ঞাপন
  • ভাইরাল মার্কেটিং
  • ভিডিও মার্কেটিং

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং(SEM)

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং বুঝতে হলে আগে সার্চ ইঞ্জিন সম্পর্কে জানতে হবে।সার্চ ইঞ্জিন হচ্ছে একটি ওয়েব অনুসন্ধান সাইট যেখানে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের ইউআরএল গুলো এবং বিভিন্ন কন্টেন্ট সংগ্রহ করা থাকে এবং নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড লিখে অনুসন্ধান করলে সেটি খুজে ফলাফল দেখায়।এরকম কয়েকটি সার্চ ইঞ্জিন হলঃGoogle,Bing,Yahoo search,ask,DuckDuckGo ইত্যাদি।কেউ যদি “ডিজিটাল মার্কেটিং কি” লিখে এসব সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ দেয় তাহলে সার্চ ইঞ্জিন ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ক ওয়েবসাইটগুলো ফলাফলে দেখাবে।এই ফলাফলকে Search Engine Results Pages (SERP) বলে।স্বাভাবিক ভাবে SERP এ যে ফলাফলটি সবার আগে থাকবে সেটিতেই ভিজিটর বেশি আসবে।নিচের ফলাফলগুলোতে পর্যায়ক্রমে ভিজিটর কমতে থাকে।প্রত্যেক কন্টেন্ট ক্রিয়েটরই চায় তার ওয়েবসাইট বা ভিডিওতে বেশি ভিজিটর আসুক।আর জন্য SERP এ সবার উপরে থাকা বাঞ্ছনীয়।এখানেই অভিজ্ঞ ডিজিটাল মার্কেটারের দরকার পড়ে।কোন ওয়েবসাইটকে র‍্যাংকে আনতে কিছু বিশেষ উপায় আছে,এর মধ্যে SEO এবং PPC অন্যতম।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন(SEO)

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন হচ্ছে ওয়েবসাইটকে SERP এ টপ লিষ্টে আনার জন্য অরগানিক এবং সময়সাপেক্ষ কিন্তু বেশি কার্যকরী উপায়।SEO তে কন্টেন্টের কোয়ালিটির উপর দিকে নজর দেয়া হয়।মানসম্মত কন্টেন্ট এর সাথে সাইটের গতি,ব্যাকলিংক বাড়ানো,অন্যান্য কারিগরি সমস্যা দূর করা সহ অনেক সম্মিলিত কাজের মাধ্যমে কোন সাইটকে র‍্যাংকে আনা সম্ভব হয়।যেটা করতে একজন অভিজ্ঞ ডিজিটাল মার্কেটারের প্রয়োজন।বর্তমানে তুমুল প্রতিযোগিতার কারনে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন শেখার জনপ্রিয়তা বাড়ছে।এসইও এর কয়েকটি ধাপ আছে।সেগুলো হলঃঅনপেইজ এসইও,অফপেইক এসইও,টেকনিক্যাল এসইও ইত্যাদি।

অনপেইজএসইওঃকন্টেন্ট হল অনপেইজ এসইও এর মেরুদন্ড।পোস্টের মান,পোস্টের বিষয়,কিওয়ার্ড এর ঘনত্ব,ইন্টার লিংকিং এবং আউট লিংকিং এসব করা।অনপেইজ এসইও করার সময় খেয়াল রাখতে হয় ইউআরএল যেন ছোট হয়,পোস্ট যেন যে বিষয় নিয়ে লেখা হয়েছে তা যেন ভাল করে ফুটিয়ে তোলে,ওয়েবসাইটটির অন্য পোস্টের লিংক অন্য পোস্টে রাখতে হয়,এবং নিজের পোস্টে অন্য ওয়েব সাইটের লিংক দিতে হয় যেগুলোকে ইন্টারলিংকিং এবং আউট লিংকিং বুঝায়।

অফপেইজ এসইওঃব্যাকলিংকিং করা,সোশ্যাল শেয়ারিং এসব অফপেইজ এসইও এর বিষয়।ব্যাকলিংক হচ্ছে অন্য ওয়েবসাইট থেকে তোমার পোস্টের লিংকটি কি পরিমান লিংকিং করা হয়েছে।ব্যাকলিংক বর্তমানে গুগল র‍্যাংকিং এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।তোমার নিজের ওয়েবসাইটের ব্যাকলিংক এর উৎস হতে পারে বিভিন্ন সোশ্যাল সাইটে শেয়ারিং থেকে কিংবা কোন ব্লগে গেষ্টপোস্টিং বা অতিথি লেখক হিসেবে লেখালেখি করে সেখান থেকে লিংক নেয়া।অনেকে আবার টাকার বিনিময়ে ব্যাকলিংক করিয়ে নেয়।তবে খেয়াল রাখতে হবে কোন প্রকার স্প্যামিং যেন না কর হয়,এতে গুগল সার্চের ফলাফলে এ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

টেকনিক্যাল এসইওঃওয়েবসাইটের বিভিন্ন কারিগরি সমস্যা সমাধান হচ্ছে টেকনিক্যাল এসইও এর বিষয়।যেমনঃওয়েবসাইটের স্পিড বাড়ানো,ইমেইজ অপটিমাইজেশন,ওয়েবসাইটের সাইটম্যাপ সার্চ কন্সোলে দেয়া,ওয়েবসাইটের বিভিন্ন ইরোর সমাধান করা,লিংক রিডাইরেক্ট করা ইত্যাদি।একসময় এটা নিয়ে কেউ তেমন মাথা না ঘামালেও বর্তমানে এটিও একটি র‍্যাংকিং ফ্যাক্টির।

ইমেইজ এসইওঃপোস্টের ছবির ক্যাপশন,Alt Text সঠিক ভাবে দেয়া,ইমেইজের ফাইল যথা সম্ভব ছোট রাখা ইত্যাদি ইমেইজ এসইও এর বিষয়।ইমেইজ এসইও ভাল ভাবে করলে সার্চ ইঞ্জিনের ছবির সার্চে ইমেইজ ভাল পজিশনে থাকে।ফলে ভিজিটরও বেশি আসে।

এছাড়াও হোয়াইট হ্যাট এসইও এবং ব্ল্যাক হ্যাট এসইও নামে দুটি টার্ম আছে।সঠিক নিয়ম মেনে এবং বৈধ উপায়ে সার্চ ইঞ্জিনের ফলাফলে শীর্ষে আসার উপায় হচ্ছে হোয়াইট হ্যাট এসইও অপরদিকে ভুল পদ্ধতি অবৈধভাবে বিভিন্ন স্প্যামিং এর মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিনের শীর্ষ ফলাফলে আসার উপায় হচ্ছে ব্ল্যাক হ্যাট এসইও।কিন্তু এক্ষেত্রে বেশিদিন শীষে থাকা সম্ভব হয় না।কারণ,সার্চ ইঞ্জিনগুলো প্রতিনিয়ত নিজেদের অ্যালগরিদম উন্নত করার মাধ্যমে ব্ল্যাক হ্যাট এসইও এর উপায় গুলো বন্ধ করার চেষ্টা করছে।

Pay Per Click(PPC)

টাকার বিনিময়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে যখন কোন কন্টেন্টকে SERP এর শীর্ষে আনা হয় সেটি হচ্ছে Pay Per Click বা পিপিসি।একটি নিজের কন্টেন্ট বা পণ্য প্রচার করার জন্য সবচেয়ে চাল এবং অব্যার্থ উপায়।নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নিয়ে নিয়ের পছন্দ মত কিওয়ার্ড টার্গেট করে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়।এখানে সুবিধা হচ্ছে যে এসইও এর মত অনেক পরিশ্রম করে শীর্ষে আসার দরকার হয় না এবং ভিজিটর এডে ক্লিক করার উপর নির্ভর করে টাকা দিতে হয়।তবে এটি দীর্ঘস্থায়ী উপায় নয়।যতদিন পর্যন্ত বিজ্ঞাপন চলতে থাকবে ততদিনই আপনার কন্টেন্টটি শীর্ষস্থানে থাকবে।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং(SMM)

বর্তমানে ৪.৪৫ বিলিয়ন মানুষ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যাবহার করে।এটি বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৭%।এত বিশাল পরিমাণ মানুষের কাছে আপনি আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের প্রচার সঠিক উপায়ে করার জন্য আপনি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর দ্বারস্থ তে হবে।ফেসবুক এড এর মাধ্যমে আপনি কত লোকের কাছে আপনার পণ্যটি প্রচার করতে চান সেটি উল্লেখ করে ক্রেতাদের বয়স,স্থান নির্ধারণ করে বাজেট অনুসারে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।এতে কম খরচেই বেশি সংখ্যাক মানুষের কাছের আপনি পৌছে যেতে পারেন।এভাবে রেড্ডিট,টুইটার,ইন্সট্রাগ্রাম সহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট,ছবি,ভিডিও ইত্যাদি কন্টেন্টের দিয়ে প্রচার করতে পারবেন।বিভিন্ন মার্কেট প্লেসে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটারের চাহিদা বেশ উচ্চ।

কন্টেন্ট মার্কেটিং(Content Marketing)

কন্টেন্ট বলতে আমরা কোন লেখা,ছবি,ভিডিও,গান এসব বুঝি।একজন কন্টেল্ট ক্রিয়েটরকে যেমন ডিজিটাল মার্কেটিং এর সহায়তা নিতে হয় তার কন্টেন্টের প্রচারের জন্য আবার কন্টেন্টের মাধ্যমেও কোন পণ্য বা সেবার প্রচার করা যায়।বর্তমানে কোন পণ্যের বা খাবারের রিভিউ দিতে দেখা যায় ফেসবুকে।এটি কন্টেন্ট মার্কেটিং এর একটি উদাহরন।কোন পণ্য বা খাবার কিংবা সেবার রিভিউ দেখে মানুষ আজকাল ওই সব পণ্য কিনতে যায় এতে ক্রেতার লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে আবার ভাল রিভিউ থাকলে বিক্রেতারও বিক্রি বাট্টা বেড়ে যায়।কন্টেন্ট মার্কেটিং হতে পারে কোন ভিডিও আকারে,কিংবা ছবি আকারে বা লেখা আকারে।পজিটিভ মার্কেটিং এবং নেগেটিভ মার্কেটিং টার্ম দুটি কন্টেন্ট মার্কেটিং এর অন্তর্ভুক্ত।পজেটিভ মার্কেটিং এ পণ্যের ভাল ভাল দিকের কথা বলে ক্রেতাকে পণ্য কেনার জন্য আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা করা হয়।কোন সিনেমা রিলিজ হলে যদি সেতা নিয়ে ভাল ভাল কথা শোনা যায় এবং পত্রিকায় লেখালেখি হয় তাহলে সেটির দর্শক বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।নেগেটিভ মার্কেটি করাটা একটু কঠিন কারণ এই উপায়ে পণ্যের খারাপ রিভিউ কিংবা আলোচনায় আসার মত করে।বিজ্ঞাপন দিলে অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রলিং করে পণ্যের প্রচার চালানো হয়।ব্যাপারটা অবাক লাগলেও এটাই সত্যি।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং(Affiliate Marketing)

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি ক্ষেত্র।কোন পন্য সেটা ডিজিটাল পণ্য হোক বা সশরীরে কিনতে পাওয়া যায় এমন পণ্য যদি আপনি কোন ক্রেতার কাছে প্রচার করে বিক্রি করতে সক্ষম হোন তাহলে আপনি কোম্পানি থেকে কিছু কমিশন পেতে পারেন এটাই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করা যায়।তবে আপনি কেমন ইনকাম করতে পারবেন সেতা অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে।যেমনঃকোন কোম্পানির পণ্য বিক্রি করছেন,কমিশন কত শতাংশ দেয়া হয়,পণ্যের মূল্য কত,কোন প্ল্যাটফরমে বিক্রি করছেন সেটি। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে কোম্পানি ভেদে কমিশন ২% থেকে ২০% বা তার ও বেশি হতে পারে।অনলাইনে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে পন্য বিক্রি করতে চাইলে ঐ কোম্পানি থেকে একটি রেফারেল লিংক দেয়া হবে।এই রেফারেল কোড বা লিংক ব্যবহার করে যদি কেউ পন্য কিনে তাহলে আপনি কমিশন পাবেন।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা ব্লগ সাইটের মাধ্যমে অনলাইনে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা যায়।ডিজিটাল মার্কেটে পণ্য বিক্রি করতে কিংকা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ বেশি ইনকাম করতে চাইলে অবশ্যই এসইও এবং ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্যান্য ক্ষেত্র সম্পর্কে ভাল ধারনা থাকা বাধ্যতামূলক।না হলে বেশি দূর আগানো সম্ভব না।কয়েকটি জনপ্রিয় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার প্রোগ্রাম আছে এমন কোম্পানিগুলো হলঃ অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েটস ,EBay,Clickbank ইত্যাদি।

ইমেইল মার্কেটিং(Email Marketing)

আপনি যদি নিয়মিত বিভিন্ন ব্লগ বা ওয়েবসাইটে ভিজিট করে থাকেন তাহলে সেখানে ইমেইল সাবস্ক্রাইব করার অনুরোধ দেখতে পাবেন।সেখানে ইমেইল দিলে তারা ইমেইলটি পরবর্তিতে ইমেইল মার্কেটিং এর কাজে ব্যবহার করবে।মানুষের ইমেইল ঠিকানা সংগ্রহ করে সেই ইমেইলে নিয়মিত ইমেইল করে পণ্যের মার্কেটিং করার উপায়ই হল ইমেইল মার্কেটিং।আপনার ইমেইল এর ইনবক্স চেক করলেই বিভিন্ন ধরনের প্রমোশনাল ইমেইল দেখতে পাবেন যেখানে বিভিন্ন অফার এবং নতুন পণ্যের বিজ্ঞাপন দেয়া আছে।ইমেইল মার্কেটিং ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি অন্যতম সেরা উপায়।কারণ এখন বিশ্বে ৪০০ কোটি মানুষ ইমেইল ব্যবহার করে।

এসএমএস মার্কেটিং(SMS Marketing)

এটিও ইমেইল মার্কেটিং এর মতই একটি ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপায়।মোবাইল ব্যবহার করে না এমন মানুষ এখন দেখতে পাওয়া যায় না।স্মার্টফোন হোক আর নরমাল ফোন হোক এসএমএস এর মাধ্যমে পন্যের মার্কেটিং সম্ভব।বিশ্বে ৭১০ কোটি মোবাইল আছে এর মধ্যে ৬৪০ কোটিই হচ্ছে স্মার্টফোন।বাংলাদেশে মোবাইল এর সংখ্যা ১৭ কোটির ও বেশি।তাই কোন পণ্যের বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্য এসএমএস মার্কেটিং এর মত সহজ আর অন্যটি নেই।ইমেইল এর মত ফোন নাম্বার সংগ্রহ করাটা কঠিন কিছু নয়।

বিঃদ্রঃ

আপনার মোবাইলে প্রমশনাল এসএসএস বন্ধ করতে চাইলে “ডু নট ডিস্টার্ব সেবা” চালু করতে পারেন।
গ্রামীণফোনের সিমে বিজ্ঞাপনের এসএমএস বন্ধ করতে *১২১*১১০১# এই নম্বরে ডায়াল ক্রতে হবে।
বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য *১২১*৭*১*২*১# নম্বরে ডায়াল করতে হবে।
রবি ও এয়ারটেল সিমের জন্য এসএমএস বন্ধ করার উপায় *৭# নম্বরে ডায়াল।

ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শিখবো?

ডিজিটাল মার্কেটিং অনলাইন এবং অফলাইন দুইভাবেই শেখা যায়।তবে অফ লাইনে শেখার আগে ইউটিউব এবং বিভিন্ন ব্লগ সাইট ঘাটাঘাটি করে এ সম্পর্কে কিছু জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন।তাহলে ফ্রিতেই আপনি অনেক কিছু শিখে ফেলতে পারবেন যেগুলো আপনি বিভিন্ন কোর্স করেও হয়ত শিখতে পারবেন না।ফ্রিতে ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার কিছু ইউটিউব চ্যানেল হলঃ

  • GARY VAYNERCHUK
  • Moz (Whiteboard Friday)
  • Neil Patel
  • HUBSPOT
  • SEMRush
  • Digital Marketing Institute Channel
  • Digital Marketer
  • Backlinko

কিছু ব্লগ সাইট আছে যেগুলো এসইও এবং ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে আপনাকে জ্ঞান বাড়াতে সাহায্য করবে।এগুলো হলঃ
Ahref এর ব্লগ সাইট
MOZ এর ব্লগ সাইট
Hubspot
Neil patel Digital
Search Engine Journal
Backlinko
Search Engine Land

এইসব ওয়েবসাইটের ব্লগগুলো নিয়মিত পরলে আপনি খুব তাড়াতাড়ি আপনি একজন দক্ষ ডিজিটাল মার্কেটার হতে পারবেন।

অনলাইনে বিভিন্ন ফ্রি এবং পেইড কোর্স পাওয়া যায়।এগুলোও দেখতে পারেন।এমন কয়েকটি সাইট হলঃUdemy,Coursera,Skillshare ইত্যাদি।Udemy তে পেইড কোর্সের পাশাপাশি ফ্রি কোর্স ও পাওয়া যায়।
বাংলাদেশে অফলাইনে শিখতে চাইলে ফ্রিতে বিভিন্ন সরকারি কোর্সও আছে।”শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং” প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে ৬ মাসের ডিজিটাল মার্কেটিং,ওয়েব ডেভেলপমেন্ট,এনিমেশন,গ্রাফিক্স ডিজাইন এসবের আলাদা আলাদা কোর্স করা যায় তাও সম্পুর্ণ ফ্রিতে।এছাড়া অন্যান্য বেসরকারি ইন্সটিটিউট ও ডিজিটাল মার্কেটিং শেখায়।তবে যেখানেই শিখতে যাও এখটু খোজখবর নিয়ে শেখা উচিত।বাটপারের তো আর অভাব নাই বাংলাদেশে!

Leave a Comment