লোগো ডিজাইন কি?টাকা ইনকাম করুন ফ্রী লোগো ডিজাইন ছবি তৈরি করে (সম্পূর্ণ গাইডলাইন)

লোগো ডিজাইন কি?(What is Logo design?)

লোগো ডিজাইন হচ্ছে বর্ণ,অক্ষর,ছবি কিংবা কোন চিহ্নের সমন্বয়ে বানানো কোন মৌলিক প্রতীক যেটি একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় বহন করে।একটি ভাল লোগো আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে একটি ভাল ধারণা জোগাতে পারে।লোগো ডিজাইন ছবি দেখেই ধারণা করা যায় প্রতিষ্ঠানটি কি কাজ করে,প্রতিষ্ঠানটি ভরসাযোগ্য কিনা।

ডিজাইন করার কয়েকটি ফ্রি এবং পেইড সফটওয়্যার আছে যেগুলো ব্যবহার করে প্রফেশনাল মানের লোগো ডিজাইন ছবি তৈরি করা যায়।কিছু অক্ষর,ছবি,কার্টুন বা নানা রং এর ব্যবহারে একটি আদর্শ ও সুন্দর ডিজাইন করা সম্ভব।

লোগো ডিজাইনের প্রকারভেদ

লোগো ডিজাইনের কয়েকটি প্রকারভেদ রয়েছে।এর মধ্যে ৭ টি প্রধান ধরণের প্রকারের ব্যাখ্যা এখানে দেওয়া হলঃ

  • মনোগ্রাম লোগো বা লেটারমার্কস লোগো
  • ওয়ার্ডমার্কস লোগো
  • পিকটোরিয়াল মার্কস লোগো
  • এবস্ট্রাক্ট লোগো
  • মাসকট লোগো
  • কম্বিনেশন লোগো
  • এমব্লেম লোগো

লেটারমার্কস লোগো(Lettermarks logo)

লেটারমার্কস লোগো একটি টাইপওগ্রাফি ভিত্তিক লোগো।কোন প্রতিষ্ঠানের নামের অদ্যাক্ষর বা শর্টকার্ট অংশ নিয়ে এই লোগো তৈরি করা হয়।এই নামগুলো সকল এর পরিচিত হয়।যেমনঃ বিখ্যাত মহাকাশ ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান NASA এর পূর্ণ রূপ National Aeronautics and Space Administration কিন্তু এর NASA নামটি সকলের কাছে পরিচিত।এর কারন নামের প্রতিটি শব্দের প্রথম অক্ষর নিয়ে এর লোগো ডিজাইন করা হয়েছে।

আমেরিকার বিখ্যাত কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান International Business Machines Corporation,যাকে আমরা সবাই IBM নামেই চিনি।জনপ্রিয় কার্টুন চ্যানেল Cartoon Network,যার শর্টনেইম CN,এই রকম বড় বড় নাম আছে এমন প্রতিষ্ঠানের নামের অদ্যাক্ষর নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির নাম সকলের কাছে পরিচিত হয়।এই রকম এক বা একাধিক শব্দ বিশিষ্ট লোগো নানা রকম রং,নানা ফন্টের লেখা দিয়ে ডিজাইন করলে সেটা লেটারমার্কস লোগো।

ওয়ার্ডমার্কস লোগো(Wordmarks Logo)

ওয়ার্ডমার্কস লোগো অনেকটা লেটারমার্কস লোগোর মতই।কিন্তু লেটারমার্কস লোগোর সাথে এর অমিল হল ওয়ার্ডমার্কস লোগোতে সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নাম থাকে।কারণ এখানে প্রতিষ্ঠানের নামটি ছোট হয়ে থাকে।টেক জায়ান্ট গুগল কিংবা ফেসবুকের লোগো ওয়ার্ডমার্কস লোগোর উদাহরণ।

এইধরণের লোগোতে ফন্টের উপর বেশি জোর দেয়া হয়।ওয়ার্ডমার্কস লোগো ব্যবহার করে এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে-ফেসবুক,গুগল,কোকাকোলা,ভিসা ইত্যাদি।এসব প্রতিষ্ঠানের লোগো খেয়াল করলে দেখতে পাবেন লোগো ডিজাইনটি কোম্পানির পুরো নাম দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে এবং আলাদা ফন্ট ও রং এর ব্যবহার আছে।

লেটারমার্কস লোগোর ব্যবহার

  • প্রতিষ্ঠানের নাম যখন বেশ লম্বা বা কয়েক শব্দ দিয়ে হয় তখন এটি ব্যবহার করা উত্তম।
  • লেটারমার্কস লোগো একটি প্রতিষ্ঠানের বড় নামকে ক্লায়েন্ট বা ক্রেতাদের মনে রাখতে সাহায্য করে।

ওয়ার্ডমার্কস লোগোর ব্যবহার

  • প্রতিষ্ঠানের নাম একশব্দের হলে ওয়ার্ডমার্কস লোগো ব্যহার করা ভাল।
  • বিভিন্ন স্টাইলের ফন্ট এবং কালার ব্যবহার করা হয় বলে দেখতে দৃষ্টিনন্দন হয়

পিকটোরিয়াল লোগো(Pictorial Logo)

পিকটোরিয়াল লোগো ডিজাইনে ছবির দিকে জোর দেয়া হয়।কোন প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড মার্ক এই প্রকারে পড়ে।এটি একটি বিশেষ ধরণের চিহ্ন সংবলিত হয় যাতে করে ওই চিহ্ন বা ছবি দেখেই মানুষ ওই প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে জানতে পারে।যেমনঃ টুইটারের উড়ন্ত পাখির ছবিটি দেখলেই আমরা বুঝে ফেলি এটি টুইটারের লোগো।কামড় দেয়া আপেলের চিহ্ন বিখ্যাত অ্যাপল কোম্পানির আইকনিক চিহ্ন।এগুলো পিকটোরিয়াল লোগো ডিজাইনের উদাহরণ।

এবস্ট্রাক্ট লোগো(Abstract Logo)

এটি একধরণের পিকটোরিয়াল লোগোর মতই।এই ধরণের লোগো ডিজাইনেও ছবির দিকে গুরুত্ব দেয়া হয় কিন্তু পিকটোরিয়াল লোগোর সাথে এর পার্থক্য হল এখানে পাখির ছবি বা ফলের ছবি থাকে না।এবস্ট্রাক্ট লোগোতে জ্যামিতিক আকৃতি প্রাধান্য পায়।বৃত্ত,ত্রিভুজ,বর্গ সহ অন্যান্য জ্যামিতিক আকৃতি লক্ষ করা যায়।বিখ্যাত কোমল পানীয় কোম্পানি “পেপসি” এর লোগোতে বৃত্তাকার আকৃতি আছে,এটি এবস্ট্রাক্ট লোগোর উদাহরন।

মাসকট লোগো(Mascot Logo design)

মাসকট লোগোতে কার্টুন বা অ্যানিমেশনের ব্যবহার করা হয়।কেএফসির লোগো মাসকট লোগোর একটি উদাহরণ।সাধারণত কোন প্রাণী বা মানুষের কিংবা কাল্পনিক চরিত্রের কার্টুন ছবি আকা থাকে লোগোতে।এই ধরণের লোগো সাধারণত কোন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বা টুর্নামেন্টের সময় সৌভাগ্যের প্রতীক মেনে আকা হয়।শিশুরা এই ধরণের লোগোর দিকে বেশি আকৃষ্ট হয় বলে শিশুদের খেলনার কোম্পানিতে এই ধরণের লোগো ডিজাইন ছবি বেশি থাকে।

কম্বিনেশন লোগো(Combination logo)

কম্বিনেশন মার্ক লোগো দুই বা ততোধিক প্রকারের লোগো নিয়ে ডিজাইন করা।ওয়ার্ডমার্ক লোগোর সাথে পিকটোরিয়াল লোগো বা মাসকট লোগো কিংবা এবস্ট্রাক্ট লোগোর সাথে পিকটোরিয়াল লোগোর ধরণের মিশ্রণে যে লোগো হয় সেটিওই কম্বিনেশন লোগো।এই ধরণের লোগো ডিজাইন অনেক আকর্ষনীয় হয়ে থাকে।লোগোতে নানা রকম কালার ও আলাদা রকম টাইপোগ্রাফির ব্যবহার থাকে সাথে কার্টুন চরিত্র বা কোন মানুষ বা প্রাণী্র ছবি কিংবা কোন জ্যামিতিক আকৃতির ছবি থাকতে পারে।

এমব্লেম লোগো(Emblem logo)

এই ধরণের লোগোতে কোন বিশেষ ছবি বা চিহ্নের মধ্যে ফন্ট লেখা থাকে।সাধারণত স্কুল,কলেজ বা অন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লোগো কিংবা কোন সেবাদাতা সংস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের লোগোতে এই ধরণের ডিজাইন ব্যবহার করা হয়।

উদাহরন হিসেবে বলা যায় কোন স্কুল বা কলেজের লোগোতে বইয়ের ছবির ভিতরে লেখা থাকার ডিজাইন।আবার কোন জ্যামিতিক আকৃতির ছবির ভিতরে লেখা থাকাও এম্বলেম লোগোর উদাহরণ,যেমনঃকোন ধরণের ব্যাজ বা সীল। ধরণ হিসেবে এটি অনেকটা কম্বিনেশন লোগোর মত।পার্থক্য হচ্ছে এমব্লেম লোগোতে ফন্টগুলো থাকবে বিষেষ চিহ্ন বা ছবি কেন্দ্রিক।

লোগো ডিজাইন কিভাবে করব

একসময় শিল্পীরা খাতা পেন্সিল বা রং তুলি দিয়ে লোগো ডিজাইন ছবি আকত।লোগো নিখুঁতভাবে আকা তখন সহজ ছিল না।কিন্তু বর্তমানে অনেক লোগো ডিজাইন সফটওয়্যার আছে যেগুলো দিয়ে একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার খুব সহজেই ছবি আকা এবং বিভিন্ন বর্নের লেখা দিয়ে লোগো আকতে পারেন।লোগো ডিজাইনের কিছু উপাদান আছে যেগুলো কাজ করার সময় ভালভাবে খেয়াল রাখতে হয়।যেমনঃ

  • টাইপোগ্রাফি(Typography)
  • রং(Colour)
  • চিত্রাবলী(Imagery)
  • অক্ষর না বর্ণ(Letter)
  • প্রসঙ্গ(Context)

টাইপোগ্রাফিঃটাইপোগ্রাফি হচ্ছে অক্ষর সাজানোর কলাকৌশল।লোগো ডিজাইনিং এর জন্য টাইপোগ্রাফি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।অক্ষরকে নানা ফন্টে সাজানো কিংবা পেচিয়ে লিখে একটি লিখাকে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা যায়।এক ফন্টে লেখা লিখলে যেরকম দেখতে লাগে,ভিন্ন ফন্ট ব্যবহারে লোগোর ছবিই পাল্টে যায়।লোগো কোন ফন্টে লেখা হচ্ছে সেটির উপর গুরুত্ব দেয়া উচিত।কোন ফন্টে লিখলে লোগো সুন্দর হবে সেটি বুঝতে হলে প্রচুর প্র্যাক্টিস করা প্রয়োজন।

কালার/রংঃলোগোতে রং এর ব্যবহার সঠিক ভাবে জানার বিকল্প নেই।লোগো সাদা কালোও হতে পারে আবার বিভিন্ন রং এর ও হতে পারে।লোগোতে এমন কোন কালার ব্যবহার করা উচিত না যাতে ডিজাইনটা দেখতে দৃষ্টিকটু দেখায়।ডিজাইন করার সময় কালার ইফেক্টের দিকে নজর দিয়ে কাজ করা উচিত।

লোগো ডিজাইন ছবিঃলোগো ডিজাইনের প্রয়োজনে ছবির ব্যবহার করতে হয়।কোন ধরণের প্রতিষ্ঠানের জন্য ডিজাইন করা হচ্ছে সে অনুসারে ছবি দিতে হবে।যেমনঃহাসপাতালের জন্য লোগো বানালে তাতে কলকারখানার ছবি ব্যবহার করলে হাস্যকর দেখাবে।আবার লোহা কারখানার লোগোতে গাছপালা-পাহাড়ের ছবি দেয়া চলবে না।অতএব প্রাসঙ্গিক বিষয়বস্তুর সাথে মিল রেখে ছবি নির্বাচন করতে হবে।

প্রতিষ্ঠানের নামঃলোগোতে প্রতিষ্ঠানের নাম থাকলে সেটি প্রতিষ্ঠানটিকে পরিচিত হবে বেশি সাহায্য করবে।প্রতিষ্ঠানের নাম যথাসম্ভব ছোট রাখলে ভাল এতে মানুষ সহজে মনে রাখতে পারবে।নাম যদি তিন বা ততোধিক শব্দের হয় তাহলে সবকটা নামের অদ্যাক্ষর নিয়ে লোগো ডিজাইন করলে ভাল দেখাবে।যেমনঃ National Aeronautics and Space Administration এর সংক্ষিপ্ত নাম NASA এবং এটি সবার কাছে সংক্ষিপ্ত রূপেই পরিচিত।

প্রসঙ্গ ঠিক রাখাঃডিজাইন করার পূর্বে লোগো কেন বানানো হচ্ছে,কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য বানানো হচ্ছে,প্রতিষ্ঠানটি কি ধরণের সেবা দেয় নাকি কোন ওয়েবসাইটের জন্য ডিজাইন করা হচ্ছে সেটা জেনে নেয়া উচিত।তাহলে ক্লায়েন্টের চাহিদা অনুসারে লোগোতে টাইপোগ্রাফি,ছবি,কালার এইসব ব্যবহার করতে হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বানানো লোগো দেখে যেন হাসপাতালের লোগো মনে না হয় আবার হাসপাতালের লোগোকে যেন হোটেলের লোগোর মত না মনে হয় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।সমুদ্রের পাড়ের কোন হোটেলের লোগোতে সমুদ্র সৈকত বা সূর্যের ছবি এসব থাকতে পারে কিন্তু মোই হোটেলের লোগোতে যদি পাহাড় বা মরুভূমির ছবি থাকে তাহলে হাস্যকর দেখায় না?

ফ্রী লোগো ডিজাইন ছবি আকার কয়েকটি সফটওয়্যার

লোগো ডিজাইন ছবি আকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হলো একটি কম্পিউটার।তবে মোবাইল দিয়ে ফ্রী লোগো ডিজাইন করে টাকা ইনকাম করা সম্ভব।লোগো ডিজাইন ছবি আকার জন্য কিছু সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হয়।এই সফটওয়্যার গুলো বেশিরভাগই প্রিমিয়াম।তবে ফ্রী সফটওয়্যারের সংখ্যাও অনেক।ফ্রীতে লোগো বানানো যায় এমন কয়েকটি সফটওয়্যার এবং অনলাইন টুলসের লিষ্ট দেওয়া হলো।

  • ক্যানভা (Canva)
  • লোগোমেকার ডট কম (logomakr.com)
  • ফটর (Fotor)
  • ইঙ্কস্কেপ (Inkscape)
  • Adobe Free logo maker
  • লোগোমেকার (logomaker.com)
  • এডোবি ফটোশপ-Adobe photoshop(প্রিমিয়াম)
  • এডোবি ইলাস্ট্রেটর-Adobe illustrator(প্রিমিয়াম)

লোগো ডিজাইন করে টাকা ইনকাম করার উপায়

লোগো ডিজাইন ছবি একে আপনি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে হাজার থেকে কয়েক লক্ষ টাকাও আয় করা সম্ভব।কিন্তু এর জন্য দরকার ভাল ডিজাইনিং এর দক্ষতা,নিজের মার্কেটিং,এবং আপনার পরিশ্রম।লোগো ডিজাইনিং করে যেভাবে টাকা ইনকাম করা সম্ভব সেগুলো হলঃ

মার্কেটপ্লেসে ফ্রিল্যান্সিং করে

মার্কেটপ্লেসগুলোতে একজন ফ্রিল্যান্স ডিজাইনারের দাম বেশ চড়া।প্রতিটি ডিজাইন সর্বনিম্ন ৫ ডলার থেকে শুরু করে ৫০০ ডলার এমনকি তারও বেশি দরে বিক্রি হয়।তাই টাকা ইনকাম করার জন্য এটি একটি সেরা উপায়।আপনি মার্কেটপ্লেসগুলোতে যত বেশি সময় অনলাইনে একটিভ থাকবেন আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা ততো বেড়ে যাবে।একজন ডিজাইনারের জন্য ভাল কিছু মার্কেটপ্লেস সাইটের নাম হলোঃ

  • ফ্রিল্যান্সার ডট কম(freelancer.com)
  • ফাইভার(Fiverr)
  • আপওয়ার্ক(Upwork)
  • 99designs
  • Guru
  • People per hour
  • Designhill

মার্কেটপ্লেসে যারা কাজ করবেন তাদের জন্য আমার কিছু পরামর্শ হলো-আপনারা ভালভাবে কাজ না শিখে মার্কেটপ্লেসে আসবেন না।মার্কেটপ্লেসে কাজ করলেই ডলার নিয়ে খেলবেন এমন না।আপনার দক্ষতাই আপনাকে টাকা ইনকাম করতে সাহায্য করবে।আপনাকে নিত্যনতুন ডিজাইন নিয়ে কাজ করতে হবে।প্রচুর ডিজাইন এবং ছবি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

ক্লায়েন্টই হলো মার্কেটপ্লেসের প্রাণ।ক্লায়েন্টকে খুশি করতে পারলে আপনার রেটিং বেড়ে যাবে যেটি আপনাকে আপনার ডলার/টাকা ইনকাম বাড়াতে এবং আপনার কাজ পেতে সাহায্য করবে।তাই ক্লায়েন্ট এর সাথে ভালভাবে যোগাযোগ করা জানতে হবে।ক্লায়েন্ট কেমন লোগো চায় সেটি ক্লায়েন্টের মনমত ডিজাইন করে দেওয়ার মত দক্ষ হতে হবে।

আপনি যদি রাত না জাগতে পারেন তাহলে ফ্রিল্যান্সিং করা আপনার জন কষ্টকর হতে পারে।।আপনার বেশিরভাগ ক্লায়েন্ট হবেন বিদেশী এবং তাদের অফিস টাইমেই আপনি কাজের অর্ডার বেশি পাবেন।কত দ্রুত ক্লায়েন্টের সাথে আপনি যোগাযোগ শুরু করবেন সেটিও আপনার প্রোফাইলে উল্লেখ থাকবে।তাই সময়জ্ঞান থাকা জরুরি।

বিশেষ ওয়েবসাইটে লোগো ডিজাইন এবং ছবি বিক্রি করে

আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং করতে না চান তাহলেও আপনি টাকা ইনকাম করতে পারবেন।এমন অনেক ই কমার্স সাইট আছে সেখানে আপনি আপনার ডিজাইন করা লোগো বা ছবি বিক্রির জন্য রাখতে পারেন এবং ক্রেতা তার পছন্দ মত যাচাইবাছাই করে কিনে নিতে পারে।এ ধরণের কিছু সাইট হলোঃ

  • গ্রাফিক্সরিভার(GraphicRiver)
  • এনভাটো এলিমেন্টস(Envato elements)
  • লোগো গ্রাউন্ড(Logogroud)
  • ক্রিয়েটিভ মার্কেট(Creative market)
  • সেল ফি(Sellfy)
  • লোগো মেস্তা(Logomesta)
  • বিজ লোগোbiz-logo)
  • স্টক লোগোস(stocklogos)
  • ডিজাইন ক্রাউড(designcrowd)
  • বাইলোগো(buylogoo)
  • ইটসি(Etsy)

ওয়েবসাইটে লোগো এবং ছবি বিক্রি করার সুবিধা

রাত জেগে ক্লায়েন্টের জন্য বসে থাকতে হয় না!লোগো বানিয়ে আপনি সাইটে বিক্রির জন্য রেখে দেবেন।তারপর নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে যাবেন।ভিজিটর সাইটে এসে যদি আপনার ডিজাইন পছন্দ করে তাহলে টাকা পরিশোধ করে আপনার করা ডিজাইনটি কিনে নেবে।

একই লোগো বা ছবি একাধিকবার বিক্রি করার সুযোগ!কিছু ডিজাইন মার্কেটপ্লেস আপনাকে লাইসেন্সিং এর সুবিধা দেবে যাতে আপনি আপনার ক্রিয়েটিভিটির মালিকানা দাবি করতে পারেন এবং তার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।আপনি চাইলে একটি ডিজাইন একাধিক কাস্টমারের কাছে শর্তসাপেক্ষে বিক্রি করতে পারবেন।

এই ধরণের ই কমার্স সাইটগুলোতে অসংখ্য ভিজিটর আসে।কারন মার্কেটপ্লেসগুলো ডিজিটাল মার্কেটিং এবং এসইও এর সাহায্য নিয়ে থাকে যার ফলে আপনাকে ভিজিটর নিয়ে কোন চিন্তাই করতে হবে না।বেশি ট্রাফিক আসলে আপনার টাকা ইনকামের সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে।

লোগো কন্টেস্টে অংশ নিয়ে টাকা ইনকাম

অনেক মার্কেটপ্লেস এবং ই কমার্স সাইটগুলোতে লোগো ডিজাইনের প্রতিযোগিতা হয়।সেখানে কন নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ডিজাইন আকতে হয়।সেখান থেকে ক্রেতারা সুন্দর লোগো ডিজাইনগুলোকে অর্থের বিনিময় কিনে নেয়।এই ধরণের কন্টেস্ট একজন লোগো ডিজাইনারের টাকা ইনকামের ভাল উপায় হতে পারে।

এটি যেহেতু একটি প্রতিযোগিতার মত তাই সেরাদের সেরা হওয়ার জন্য আপনাকে ডিজাইনিং এ অনেক দক্ষ হতে হবে।যেমন তেমন লোগো ডিজাইন বা ছবি একে আপনি দর্শকদের আকৃষ্ট করতে পারবেন না।তাই আপনাকে দক্ষ ডিজাইনার হতে অনেক শ্রম দিতে হবে।

কোথায় শিখবেন লোগো ডিজাইন

ইউটিউব বর্তমানে যেকোন বিষয়ে পারদর্শী হওয়ার জন্য একটি সেরা মাধ্যম।তারচেয়ে বড় ব্যাপার এটি ফ্রি প্ল্যাটফর্ম।যারা একেবারেই ডিজাইনিং সম্পর্কে বেসিক ধারণা নেই তাদের জন্য শেখা শুরু করার জন্য ইউটিউবের চেয়ে ভাল প্ল্যাটফরম আর হতেই পারে না।যে সকল ইউটিউব চ্যানেল ফলো করতে পারেন সেগুলো হলোঃ

  • Mohamed Achraf
  • Creatnprocess
  • Logos by Nick
  • Satori Graphics
  • Dansky
  • Dainogo

এছাড়া পেইড কোর্স করতে চাইলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের কোর্স করা যায় অনলাইন থেকে।এমন কয়েকটি সাইট হলোঃ

  • Skillshare
  • Udemy
  • Coursera
  • thefutur
  • Creative live

আপনি যদি দেশে ভাল কোন কোর্স করতে চান তাহলে সরকারি ভাবে বাংলাদেশ হাই টেক পার্ক অথোরিটি কর্তৃক গ্রাফিক্স ডিজাইনিং ৬ মাস বা এক বছর মেয়াদি কোর্স করানো হয়।নির্দিষ্ট সময়ে এসব প্রকল্পে শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়া হয়।এই প্রকল্পগুলো সরাসরি আইসিটি মন্ত্রনালয় থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় বলে বেশ মানসম্মত।এছাড়া বেসরকারিভাবে অনেক আইটি ইন্সটিটিউট বিভিন্ন কোর্স করায়।তবে এক্ষেত্রে প্রতারিত না হতে চাইলে খোজখবর নিয়েই ভর্তি হওয়া উচিত।নয়তো টাকা এবং সময় দুটোই নষ্ট হতে পারে।কেননা এখন নামে বেনামে যত্রতত্র আইটি ইন্সটিটিউট দেখা যায় যেগুলো অধিকাংশই অদক্ষ লোক দিয়ে পরিচালিত হয়।

সর্বশেষ কথা

লোগো এবং গ্রাফিক্স ডিজাইন এর বর্তমানে যে হাইপ আছে ভালভাবে কাজ শিখলে এই সেক্টরে টাকা ইনকাম নিয়ে কোন চিন্তা করতে হবে না।কেননা দক্ষ লোকদের কাজ খুজতে হয় না ,কাজ নিজে থেকেই দক্ষ লোকদের কাছে চলে আসে।তাই কাজ শিখুন,পরিশ্রম করুন-সফলতা আসবেই।

Leave a Comment